Flash News

Physics graduate, Code geek and data science enthusiast

Mail Instagram Pinterest RSS

আজব সব জীবগুলি - ৪ (বীভার)

আজকের প্রানীটি দেখতে বাদামী রঙের, তুলনামূলকভাবে ছোট-খাট, নিশাচর এবং স্তন্যপায়ী। এই প্রানীটি সবার কাছেই বেশ পরিচিত। প্রানীজগতে এর সুখ্যাতি রয়েছে 'সিভিল ইঞ্জিনিয়ার' হিসাবে। এটি আর কেউ নয়, স্বয়ং বীভার মহাশয়। কানাডা ও উত্তর আমেরিকায় এদের বাস। এক সময় সারা পৃথিবীতেই এদের ইঞ্জিনিয়ারগিরির প্রমান পাওয়া যেত, কিন্তু চামড়ালোভী কিছু মানুষের নিধনযজ্ঞে মারতে মারতে এদেরকে কোনঠাসা করে ফেলেছে।
বীভার Rodentia বর্গের,Castoridae পরিবারের অন্তর্গত। মাটি, পানি, আর গাছের ডালপালা মিশিয়ে নিজেদের বাসা নিজেরাই তৈরি করে (ইঞ্জিনিয়ার বলে কথা!) । বীভারদের বাসাকে 'বীভার লজ' (Beaver lodge) বলে ডাকা হয়।  বীভার লজ হাত-পাঁচেক চওড়া এবং উপরের দিকে কিছুটা সুচালো হয়। এরা পানিতে আর ডাঙাতে দুই জায়গায়ই বেশ মানিয়ে নিতে পারে।
এদের একটা অনন্য গুন হলো এদের দলবদ্ধতা। যখন কোন বিপদ এসে হাজির হয় একটি বীভার পানিতে ঝুপ করে ঝাপ দিয়ে তার বিশাল লেজ দিয়ে পানির উপর বাড়ি দিতে থাকে । পানির ছপছপ শব্দে অন্য বিভার গুলোও সাবধান হয়ে যায়। বাড়ির কাছাকাছি থাকলে টুপ করে বাসার মধ্যে ঢুকে ঘাপটি মেরে বসে থাকে, আর না হলে লম্বা একটা দম নিয়ে পানির নিচে ডুব মারে। এভাবে একটি বীভার পানির নিচে প্রায় ১৫ মিনিট দম না নিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে পারে।
এক একটি বীভার লজে একজন কর্তা বীভার, দু-তিনটি মাদী বীভার আর একগোছা বীভারছানা থাকে। একটু বড় হলে বাসা থেকে ছানাদের ঝাড়ি দেয়া হয়-"বুড়ো-ধারি ছেলে, এবার নিজের লজ নিজে বানিয়ে নাওগে।" বীভার যুবক তখন বের হয়ে পরে। একই জায়গায় বেশি ভীড় করে থাকলে খাবারের সংকট দেখা দেবে। তাই তারা কাছে পিঠে বাসা তৈরি করে না। নিরুদ্দেশের পথে বেড়িয়ে খুঁজতে খুঁজতে বদ্ধ জলাশয় পেলে সেখানে বাসা বাধে। কোন মাদী বীভার সেটা দেখে বীভার যুবকের প্রেমে পড়ে যায়। তখন তারা সুখে শান্তিতে বাস করা শুরু করে।
কিন্তু যদি বদ্ধ জলাশয় না থাকে? ঠিক তখনই এদের 'ইঞ্জিনিয়ার' খেতাবের মাজেজাটা বোঝা যায়। প্রথমে ওরা একটা ছোটখাট জরিপ চালিয়ে নেয়, যেমন বৃষ্টি হলে পানি কোনদিক দিয়ে প্রবাহিত হয়, স্রোত কোনদিক থেকে আসে ইত্যাদি। তারপর কুটুর কুটুর করে গাছ কেটে নামায়। এরা দেহে তিন-চারগুন বড় গাছকে অনায়াসে কেটে নামিয়ে নিতে পারে। তারপর ছোট ডালপালা ফেলে গড়িয়ে নিয়ে এসে নদীতে জড়ো করে। এরপর পাথর গড়িয়ে এনে ছিদ্র বন্ধ করে দেয়। সব শেষে কাদামাটি এনে ছোট ছোট ফাঁক ফোকড় ও বন্ধ করে ফেলে।

বাঁধ নির্মান শেষ করে বর্ষা আসার আগেই। বৃষ্টি এলে ওখানে একটা ছোটখাট জলাশয় তৈরি হয়ে যায়। সাধারনভাবে এসব বাঁধ ১০ থেকে ১০০ মিটার লম্বা হয়ে থাকে। তবে সবচেয়ে বড় বীভার-বাঁধটির দৈর্ঘ্য ২৮০০ ফুট এবং সেটি এখনও অক্ষত রয়েছে। গত কয়েক দশক ধরে নতুন বীভারদল এসে বাপ দাদার কাজের উপর কাজ করে যাচ্ছে।
আজকাল যেভাবে চারিদিকে নির্মান ভেঙ্গে পড়েছে, হয়তো এই বীভারগুলিকে প্রশিক্ষন দিয়ে নির্মান করলে সেটা থেকে রক্ষা পাওয়া যেতো!!! খাইছে
পুনশ্চঃ পদ্মাসেতুর দায়িত্ব এই বীভার মহাশয়দের দিলে কেমন হয়? চিন্তিত

১) http://en.wikipedia.org/wiki/Beaver
২) না মানুষী বিশ্বকোষ
৩)http://news.discovery.com/animals/beaver-dam-canada-space.html
পূর্বে প্রকাশিতঃ সচলায়তন